মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০

আঞ্জুমান আরা বেগম

 



কণ্ঠশিল্পী আঞ্জুমান আরা বেগম শুরু করেছিলেন ১৯৫৮ সালে রেডিওর অডিশনে পাস করে। ১৯৬০ সালেই প্লেব্যাকে আসেন হারানো দিন ছবির মাধ্যমে। এরপর ঢাকা মেইড উর্দু চান্দা, গোরী, বন্ধন, বালা, বাংলা ছবি জোয়ার এল, সুতরাং, চাওয়া পাওয়া, আবির্ভাব, আয়না ও অবশিষ্ট, অন্তরঙ, বাল্যবন্ধু, মোমের আলো,নয়ন তারা,আগন্তুক, সন্তান,কাগজের নৌকা,স্মৃতিটুকু থাক দুই পর্ব, মাসুদ রানা, অতিথি, মণিহার, মধুমিতা, ফেরারীসহ আড়াই শতর মত ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। একজন প্লেব্যাক শিল্পীর মধ্যে যে ভ্যারাইটি থাকা প্রয়োজন তা পূর্ণমাত্রায় ছিল আঞ্জুমান আরা বেগমের মধ্যে। কারণ ঘুমপাড়ানি গানের রাণী কি অসামান্য দক্ষতায় গেয়েছেন ক্যাবারে গানগুলো। আবার সফট রোম্যান্টিক গানেও রেখেছেন অতুলনীয় প্রতিভার স্বাক্ষর।


প্রথমে লক্ষ্য করা যাক কিছু ঘুমপাড়ানি গান ( Lullaby)
১। খোকন সোনা বলি শোন( ছবি- সন্তান)
২। ঘুম নেমে আয়রে ঘুম নেমে আয়( আ: জব্বারের সাথে তৃষ্ণা ছবিতে)
৩। আয় রে আয় ঘুম আয়( এম,এ হামিদের সাথে আবির্ভাব ছবিতে)
৪। সাতটি রঙের মাঝে আমি মিল খুঁজে না পাই( ছবি- আবির্ভাব)
৫। এক যে ছিল পুতুল রাজা(মোমের আলো)
৬। এক যে ছিল রাজার কুমার( স্মৃতিটুকু থাক)
একই শিল্পীর গাওয়া কিছু চির সবুজ রোম্যান্টিক গান
১। আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল( আয়না ও অবশিষ্ট)
২। বলতো পাখিরা কেন যে গান গায়( জোয়ার এল)
৩। তুমি আসবে বলে কাছে ডাকবে বলে ( সুতরাং)
৪। বুঝি এর নাম ভালবাসা( অন্তরঙ)
ক্যাবারে গানে আঞ্জুমান আরা বেগম ছিলেন বিস্ময়কর ভাবে সাবলীল:
১। ইস্কাপনের টেক্কারে রুহিতনের সাহেবরে( দুই পর্ব)
২। ও ও রানা( মাসুদ রানা)
৩। লোকে বলে ভালবেসনা( মাসুদ রানা)
মণিহার ছবিতে তাঁর গাওয়া ফোক ধারার গান:

"বিক্রমপুরে বাপের বাড়ি ছিল একদিন পদ্মার পাড় মামার বাড়ি মধুপুরে নিজের বাড়ি নাই আমার"

তিনি নজমুল হুদা, টেলী সামাদ, দীলিপ বিশ্বাস ও সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে সিনেমায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমেডি গান গেয়েছেন, এর মধ্যে একটি হল টেলী সামাদের সাথে-
বুকে চাক্কু মাইরা গেলি ছাইড়া( ছবি- মধুমিতা)

রেডিওর বেসিক আধুনিক গানের একটি প্রধান কণ্ঠ ছিল আঞ্জুমান আরা বেগম। তাঁর গাওয়া কিছু আধুনিক গান:
১। নয়নে নয়ন রেখে
২। একটি রজনীগন্ধা বাতাসে গন্ধ ঢেলে
৩। মধুর আবেশ ভরা এ ক্ষণ
৪। আমায় এত ভালবেসনা এত ভাল বেসনা


উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশাত্মবোধক গানও গেয়েছেন। টিভির জন্মলগ্ন থেকেই গান গেয়েছেন আঞ্জুমান আরা বেগম। তাঁর জন্ম ১৯৪২ সালে বগুড়ায়। তাঁর বড় বোন জেব-উন - নেসা জামাল একজন প্রথিতযশা গীতিকার, আরেক বড়বোন মাহবুব আরা বেগম কণ্ঠশিল্পী, ভাগ্নী জীনাত রেহানা ( খ্যাতনামা গীতিকবি জেব- উন- নেসা জামালের মেয়ে)বাংলাদেশের আধুনিক গানের কিংবদন্তী এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কণ্ঠশিল্পী
রুনা লায়লা তাঁর আপন মামাত বোন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে মাস্টার্স আঞ্জুমান আরা বেগম চাইলে বড় পদে চাকুরীও করতে পারতেন তবে তিনি চেয়েছিলেন শুধু গান গাইতে।
আঞ্জুমান আরা বেগম বিভিন্ন মাধ্যমে গান গেয়েছেন প্রায় চার হাজার। এর মধ্যে ফিল্মী গান পাঁচশর মত।
বাংলাদেশের সংগীত জগতে তাঁর বিস্তৃত অবদানকে মূল্যায়ন করা হয়েছে শুধু একুশে পদক দিয়ে।
২০০৪ সালের ২৯ মে আঞ্জুমান আরা বেগম এই আলোছায়ার ভুবন কে বিদায় জানিয়েছিলেন।
সোনালী দিনের অতি আপন কণ্ঠশিল্পীকে তাঁর ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী তে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আধুনিক গানের স্বর্ণালী দিন এর নেপথ্যের কারিগর

  পঞ্চাশ দশকের মাঝামাঝি থেকে ষাট দশকের সূচনা পর্যন্ত রেডিওর গানগুলোতে আবু হেনা মোস্তফা কামাল মেলোডির উপস্থাপনা করেন। সুরকার ও গায়ক হিসেবে আব...