বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তী সৈয়দ আবদুল হাদী
সৈয়দ আবদুল হাদী-একটি নাম,একটি ইতিহাস ও একজন কিংবদন্তী ।দীর্ঘ ৫৪ বৎসর যাবত নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনকে ।নিজে বিকশিত হয়েছেন, অন্যকে বিকশিত করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন সঙ্গীত শিল্পীদের, সমৃদ্ধ করেছেন বাংলাদেশী গানের ভাণ্ডার, এখনো পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছেন রুচিশীল সঙ্গীতকে ।তাঁর সকল সমসাময়িক অন্যান্য প্রথিতযশা শিল্পীবৃন্দ গানের ভুবন থেকে সরে গেছেন বহু আগে, কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন কিন্তু তিনি গানের জগতের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছেন সার্থকভাবে এবং স্বকীয়তা বিসর্জন না দিয়েই ।
বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তী সৈয়দ আঃ হাদী জন্মগ্রহন করেন ১৯৪০ সালে বৃহত্তর কুমিল্লায় ।তাঁর পিতার নাম সৈয়দ আঃ হাই ।পিতা তদানীন্তন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন ।তিনি অবসর নিয়েছিলেন ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে ।সৈয়দ আবদুল হাদীদের পাঁচ ভাই ও দুবোনের মধ্যে তিনি সবার বড় ।তিনি পড়াশুনা করেছেন বি,বাড়ীয়া,ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাষ্টার্স পাশ করার পর তিন বছর অধ্যাপনা করেছেন জগন্নাথ কলেজে ।এরপর টেলিভিশন,মাস মিডিয়া ও পরিশেষে পাবলিক লাইব্রেরীতে ২৫ বছর চাকুরী করার পর ডিরেক্টর হিসেবে অবসর নেন ১৯৯৮ সালে । গান করতেন ছোটবেলা থেকেই ।গানের ব্যাপারে প্রতিবেদকের সাথে তাঁর কথাবার্তা নিম্নরুপ ঃ
আহসান রফিক--আপনার প্রথম ওস্তাদ কে?
সৈয়দ আবদুল হাদী--আসলে আমিতো ওরকমভাবে গান শিখিনি ।বি,বাড়ীয়াতে স্কুলে পড়ার সময় সুবল দাশ আমাকে কিছু লেসন দিতেন ।পরবর্তীতে রেডিওতে গান গাওয়ার সময় ক্ল্যাসিকেলের পাঠ নেই ওস্তাদ কাদের জামেরী,ওস্তাদ পি,সি গোমেজ রবীন্দ্র সঙ্গীত শিখি আঃ আহাদের কাছে ।নজরুল সঙ্গীতেও কিছু দীক্ষা নিয়েছিলাম ।
আ,র--আপনার রেডিওতে অভিষেক কত সালে?
সৈ,আ,হা- ১৯৬২ সালে ।অবশ্য রেডিওতে গান গাওয়ার আগেই এস,এম শফি পরিচালিত উর্দু ছবি ইয়ে ভী এক কাহানী ছবিতে প্লে ব্যাক করি ১৯৬০ সালে ।ছবির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন করীম শাহাবুদ্দিন ।তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ।
আ,র-টিভিতেতো বোধ হয় শুরু থেকেই অর্থাৎ ১৯৬৪--
সৈ,আ,হা--না ।টিভিতে প্রথম গাই ১৯৬৫র জানুয়ারীতে ।
আ,র--অনেকেই বলেন আপনার প্রথম বাংলা প্লেব্যাক ডাকবাবু ছবিতে ।আমি যতদূর জানি সুতরাং ছবিতে নজমুল হুদা বাচ্চু ও অন্যদের সাথে উর্দু-বাংলা মিক্সড একটি কমেডীর মাধ্যমে আপনার বাংলা প্লেব্যাকের সূচনা । ।গানটি হল ''দেখ পিছে আরাহাহে মুটে জমিদার'' ।
সৈ,আ,হা-- আসলে দুটোই সত্য ।আমার প্রথম বাংলা একক প্লেব্যাক ডাকবাবু ছবিতে যা রেকর্ড হয় ১৯৬৪ সালে ।
আ,র--গানটি হল''চাতুরী জানে না মোর বধূয়া'' ।আলী হোসেনের সুরে ।এ ছবিতে ফেরদৌসী রহমানের সাথে আপনার চমৎকার একটি ডুয়েট আছে ''ওগো তুমি দূরে থেকে আমারে যে যাও ডেকে''।
সৈ,আ,হা--অনেক কিছুই জান দেখি ।তবে ১৯৬৩ সালে একালের রুপকথা নামের একটি ছবিতে আমি ফরীদা ইয়াসমীনের সাথে একটি ডুয়েটে কণ্ঠ দিয়েছিলাম । ছবিটি আনরিলিজড থেকে যায় ।
আ,র--হাদী ভাই,একটু অন্যদিকে আসি ।আমি আমাদের এ অঞ্চল অর্থাৎ বাংলাদেশ বেইজড আধুনিক গানের দুটি পিরিয়ড যদি উল্লেখ করি একটি ১৯৩৯-১৯৬০ যখন রেডিও ষ্টেইশান ছিল নাজিমউদ্দিন রোডে এরপর ১৯৬০ থেকে এ পয ন্ত যখন রেডিওর ট্রান্সক্রিপশান সার্ভিস স্থানান্তরিত হয় শাহবাগে ।১ম পিরিয়ডটি কী ষ্টাইল ও সুরের দিক দিয়ে কলকাতা প্রভাবিত ছিল?
সৈ,আ,হা--১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ঢাকার অনেক আর্টিষ্ট কলকাতা চলে যান ।কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে এ ভ্যাকুয়াম পূরণ করেন আঃ আহাদ,আঃ হালিম চৌধূরী,কাদের জামেরী,সোহরাব হোসেন প্রমুখ ।ঐ সময় আর্টিষ্ট কম থাকায় তাদেরকে একসাথে অনেক ভূমিকা পালন করতে হত ।যারা সুর করতেন তারা সবাই গান গাইতেন অনেকে গান লিখতেনও ।ওনাদের সাথে আরো ছিলেন আঃ লতিফ ও সমর দাশ ।ওনাদের উপস্থাপনায় কলকাতার সামান্য প্রভাব হয়তো ছিল ।তবে মধ্য পঞ্চাশে আবু বকর খাঁন ও আনোয়ারউদ্দিন খাঁন আসার পর থেকেই মূলত আমাদের এ অঞ্চলের আধুনিক বাংলা গানের এক স্বতন্ত্র সত্তার আবির্ভাব হয় ।ওনাদের সাথে আরো ছিলেন আসফউদ্দৌলা,খান আতাউর রহমান,আফসারী খানম,মাহবুবা রহমান ও ফেরদৌসী রহমান ।এর কিছু পর তাদের সাথে যোগ দেন আঞ্জুমান আরা বেগম ।
আ,র--লায়লা আর্জুমান্দ বানু ও হুসনা বানু খানম ।
সৈ,আ,হা--হ্যঁা ।তবে লায়লা আর্জুমান্দ বানু অন্যান্য গানও গাইতেন ।
আ,র--আধুনিক গানের সোনালী যুগ আপনার মতে কখন শুরু ও কখন পযর্ন্ত স্থায়ী ছিল ।
সৈ,আ,হা--মধ্য পঞ্চাশ থেকে টানা সত্তরের শেষ পযর্ন্ত ।
আ,র--১৯৫৫-১৯৮০ পযর্ন্ত ধরা যায়?
সৈ,আ,হা--হ্যাঁ ।এরপরই অবক্ষয়ের শুরু ।
আ,র--মধ্য পঞ্চাশে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল তা আরো বেগবান হয় ষাটের শুরুতে আপনারা আসার পর ।
সৈ,আ,হা--তাইতো মনে হয় ।আমি,মাহমুদুন্নবী,আঃ জব্বার,খন্দকার ফারুক আহমেদ,বশির আহমেদ,এম,এ হামিদ ও মোঃ আলী সিদ্দিকী হৃদয় দিয়ে চেষ্টা করেছি আমাদের বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে ।
আ,র--খানিকটা সীমিত পরিসরে ছিলেন সাইফুল ইসলাম ও শওকত হায়াত খাঁন ।এরপর আবার খুরশীদ আলম ।
সৈ,আ,হা--ঠিক তাই । সাইফুল ইসলাম ও শওকত হায়াত খাঁন খুব কম গান করেছেন তবে কোয়ালিটি গান গেয়েছেন ।যেমন সাইফুল ইসলামের ''সোনার কাঠি রুপোর কাঠি'',''তুমি সন্ধ্যাকাশের তারার মত'',শওকত হায়াত খাঁনের''দুটি পাখি একটি ছোট্ট নীড়ে''।মেয়েদের মধ্যে ছিলেন ফেরদৌসী রহমান,আঞ্জুমানআরা,ফরীদা ইয়াসমীন এরপর শাহনাজ,হাসিনা মমতাজ,জীনাত রেহানা,সাবিনা ইয়াসমীন,রুনা লায়লা এরা সকলে মিলেই সোনালী সময়টাকে গড়েছিল ।
আ,র--আপনাদের গানে কী কিছুটা শ্যামল মিত্র,মান্না দে বা হেমন্ত মুখার্জীর প্রভাব ছিল?
সৈ,আ,হা--ওনারা আমাদের পূবর্সুরী ।ওদের গান শুনে বড় হয়েছি।ওনাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলাম তবে অনুকরণ করিনি ।আমিসহ সমসাময়িক যাদের নাম বলেছি তাদের সবারই নিজস্ব ষ্টাইল ছিল ।আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি কলকাতার প্যারালাল একটি আলাদা সত্তা গড়ে তুলতে ।
আ,র--আমার ব্যক্তিগত অভিমত আপনাদের গায়কীতে বৈচিত্র ছিল ।একমাত্র বশির আহমদের কণ্ঠে আমি কোন ফোক গান শুনিনি ।আপনারা ফোক গানও গেয়েছেন স্বার্থকতার সাথে ।
সৈ,আ,হা--ঠিকই বলেছ ।আমরা সবাই বৈচিত্রপিয়াসী ছিলাম ।সুরকাররা আমাদেরকে দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ষ্টাইলে গান করিয়েছেন ।তবে ফোক মনে হয় আমি আর আঃ জব্বার বেশী গেয়েছি ।লক্ষ্য করলে দেখবে ষাটের দশকের ফোক ছবিগুলোতে আঃ আলীম ও আঃ রউফের পাশাপাশি আমি অনেক ফোক গান গেয়েছি ।
আ,র—রেডিও,টিভি,ষ্টেইজ,ফিল্ম কোন মাধ্যমে গান গাওয়া কঠিন?
সৈ,আ,হা—সবগুলোতেই কঠিন আবার সবগুলোতেই সহজ ।সিনসিয়ারলি ও পারফেক্টলি গাইতে গেলে সবগুলোই কঠিন ।
আ,র—১৯৮০র পর আধুনিক ও ফিল্মের গানে যা হয়েছে তা কী স্বাভাবিক পরিবরতন না বিকৃতি?
সৈ,আ,হা—অবক্ষয় বলা চলে ।তুমি পরে যে প্রশ্ন করবে সেটা সহ একবারে উত্তরটা দিয়ে দিই ।আমাদের শ্রোতা ও দর্শকের প্রতি একটা কমিটমেণ্ট ছিল ।একটা গান রেকড়ডিং হতে ৩,৫ এমনকি ১০ দিন লেগে যেত ।পারফেক্ট না হওয়া অবধি চলতেই থাকত ।যারা লিখতেন বুঝে জেনে লিখতেন ।নামগুলো লক্ষ করলেই বুঝবে ডঃ মোঃ মনিরুজ্জামান,ডঃ আবু হেনা মুস্তাফা কামাল,আজিজুর রহমান,কে,জি মুস্তাফা,গাজী মাযহারুল আনোয়ার,মাসুদ করীম,সৈয়দ শামছুল হক ।এদের মধ্যে অনেকেই কবি সাহিত্যিক ছিলেন ।সুর করতেন খাঁন আতা(তিনি লিখতেন ও গাইতেনও),আলতাফ মাহমুদ,সমরদাশ,সত্য সাহা,সুবল দাশ,আজাদ রহমান,খন্দকার নুরুল আলম,আনোয়ার পারভেজ,বশির আহমেদ,আনোয়ারউদ্দিন খাঁন,আলী হোসেন । ।এরা যথেষ্ট সিনসিয়ার ছিলেন,সাধনা করতেন সুর নিয়ে এক্সপেরিমেণ্ট করতেন ।এখনতো সব কিছু দ্রুত হচ্ছে ।তবে এর মাঝেও আলাউদ্দিন আলী,আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ৮০র দশকে অনেক ভাল গান উপহার দিয়েছেন ।লাকী আকন্দের প্রচেষ্টাও প্রশংসনীয় ।স্বাধীনতার পর রফিকুল আলম,সুবীর নন্দী,নিয়াজ মোঃ চৌধূরী,প্রবাল চৌধূরী,নাগিস পারভীন,শাম্মী আখতার,আবিদা আশির দশকে সামিনা ,ফাহমীদা,কণকচাঁপা এরা আধুনিক গানের মেইন ষ্ট্রিমেই ছিলেন এবং এখনো আছেন ।একবারে নতুনদের মধ্যেও অনেকে আছে যাদের মধ্যে গানকে বিকৃত করার মানসিকতা নেই ।তাদের সবার প্রতি আমার শুভ কামনা ।আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি আধুনিক গান তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে ।
সুশিক্ষিত,রুচিশীল ও মননশীল মানুষ সৈয়দ আবদুল হাদী তাঁর সুদীঘ ৫৪ বছরের সঙ্গীত জীবনে গান গেয়েছেন প্রায় বার হাজার,প্লেব্যাক করেছেন প্রায় ৩৫০টি ছবিতে,ফেরারী ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন,শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে চলচ্চিত্র পুরষ্কার জিতেছেন ৫বার ।যোগবিয়োগ ছবিতে তাঁর গাওয়া’’এই পৃথিবীর পান্থশালায়’’অনিবাণ ছবিতে’’কী হবে গানের সুর হারিয়ে গেলে’’চোরাবালী ছবিতে’’আজি এ মাধবী রাতে’’আলো তুমি আলেয়া ছবিতে’’তোমাদের সুখের এই নীড়ে’’,উপহার ছবিতে’’শূন্য হাতে আজ এসেছি’’,গোলাপী এখন ট্রেনে ছবিতে’’আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার বারিষ্টার’’,সুন্দরী ছবিতে’’কেউ কোনদিন আমারে তো কথা দিল না’’,দুই পয়সার আলতা ছবিতে’’এমনতো প্রেম হয়’’,ফকির মজনু শাহ ছবিতে’’চোখের নজর এমনি কইরা একদিন খৈয়া যাবে’’বড় ভাল লোক ছবিতে’’চোখ বুজিলেই দুনিয়া আন্ধার’’,নয়নমণি ছবিতে’’অনাথিনীর বুকের মাণিক বল আমারে বল রে’’,আশীবাদ ছবিতে’’জীবন ফুরিয়ে গেল দুঃখ ফুরাল না’’,ত্যাগ ছবিতে’’তেল গেলে ফুরাইয়া বাত্তি যায় নিভিয়া’’,জন্ম থেকে জ্বলছি ছবিতে’’জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’’সহ বহু গান কালজয়ী হয়ে আছে ।সাবিনা ইয়াসমীনের সাথে অনেক ডুয়েট আজো জনপ্রিয় ।তাছাড়া রুনা লায়লা,ফেরদৌসী রহমান,আঞ্জুমান আরা বেগম,আবিদা সুলতানা,শাম্মী আখতার,সামিনা চৌধুরীর সাথেও অনেক গান গেয়েছেন ।রেডিওতে তাঁর গাওয়া অজস্র গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় ।এর কয়েকটি হল’’কিছু বল কিছু বল’’,’’সব কিছু মোর উজাড় করে দিয়েছি তোমায় তুলে’’,’’কত দূর যাবে বল পান্থ’’,’’এসো কিছুটা সময় রেখে যাই’’,’’আমার এ ভালবাসার কাজল লতা’’,’’প্রেম করে কেউ ঘর করে’’সহ আরো বহু গান ।তার গাওয়া দেশাত্নবোধক গানও ব্যাপক জাগরণের সৃষ্টি করেছে ।এমনি একটি গান হল’’সূযোদয়ে তুমি সূযাস্তেও তুমি’’যা হৃদয়ে দেশপ্রেমের ছোঁয়া লাগায়।
সম্মানিত শিল্পী সৈয়দ আঃ হাদী এখনো সীমিতভাবে সঙ্গীতভুবনে জড়িয়ে আছেন।এন টিভিতে একটি গানের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ।তবে বেশির ভাগ অবসর সময়ই কাটে তাঁর ।মাছ ধরা তাঁর একটি প্রিয় শখ ।বছরে একবার দেশের বাইরে যান ।তাঁর তিন মেয়ে সকলেই সুপ্রতিষ্ঠিত ।তনিমা হাদী পরিচিত শিল্পী ।এখন ইউ,এন জেনেভা অফিসে চাকুরী করছেন ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন