প্রেক্ষাপট-বাংলাদেশী স্বর্ণালী দিনের গান
এম,আহসান রফিক
একবার জগদ্বিখ্যাত গজল গায়ক প্রয়াত জগজিৎ সিং এর কাছে এক নামী ভারতীয় সুরকার প্রস্তাব নিয়ে গেলেন তালাত মাহমুদের কন্ঠের বাংলা গানগুলোকে রিমেইক করার জন্য ।জগজিৎ সিং সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বললেন যে শিল্পী এখনো বেঁচে আছেন তাঁর গান নিয়ে নাড়াচাড়া করা ঠিক নয় ।সত্যিকারের গুণী শিল্পীদের অন্য গুণী শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকারই কথা ।
একটি মানসম্মত গানের পেছনে গীতিকার,সুরকার,শিল্পী ও যন্ত্রীদের যে ত্যাগ তিতিক্ষা থাকে তা বলাই বাহুল্য । যদি কোন কারণে অনুরুপ কোন গান হারিয়ে যেতে থাকে তখন পরবর্তী প্রজন্মের কোন শিল্পী বা সুরকার শুধুমাত্র ঐ গানের কুশলী ও গানটিকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে গানটিকে নিজেদের কন্ঠে ধারন করতে পারেন তবে অবশ্যই ঐ গানের কুশলীদের হাইলাইট করে ।এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে মোহিনী চৌধূরীর লেখা সত্য চৌধূরীর গাওয়া''পৃথিবী আমারে চায় রেখ না বেঁধে আমায়''গানটি যখন হারিয়ে যেতে বসেছিল তখন ভারতীয় নামী গায়ক তরুণ বন্দোপাধ্যায় গানটির মূল সুর ঠিক রেখে গানটি রিমেইক করলেন গানের মূল শিল্পীর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখে ।কিন্তু গানটি যখন বাংলাদেশে রিমেইক হলো কাদেরী কিবরিয়ার কন্ঠে বিপত্তি দেখা দিল তখনই ।গানটিকে উল্লেখ করা হলো হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া গান হিসেবে ।মূল গানের সুর ঠিক রেখেও যদি তথ্যবিভ্রাট ঘটানো হয় তাহলেও গানের প্রতি অবিচার করা হয়,সঠিক তথ্য গোপন রাখা গান হাইজ্যাকের শামিল আর গানের মূল কথা ও সুর বিকৃত করা তো গানকে খুন করার মতই । আর এ তিনটি কাজই বাংলাদেশের শিল্পী ও সুরকাররা অবলীলায় করে চলেছেন ।অজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক মনোভাবই এর পেছনের মূল কারণ ।
বাংলাদেশী আধুনিক ও সিনেমার গানের স্বর্ণালী সময় হলো পঞ্চাশ দশকের মাঝামাঝি থেকে সত্তর দশকের শেষার্ধ পর্যন্ত, এ মূল্যায়ণ কোন সাধারণ শ্রোতার নয় এটি তাবৎ গবেষক ও সঙ্গীতবোদ্ধাদের বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত ।আর এর সবচে বড় প্রমাণ হলো ঐ সময়ের গানকে পুঁজি করে পরবর্তী প্রজন্মের বহু শিল্পী প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন ।ভুঁড়ি ভুঁড়ি উদাহরণ আছে ।শুরু করেছেন ষাট ও সত্তর দশকের গান দিয়ে, জনপ্রিয়তা পেয়েছেন,নিজস্বতা গড়ে উঠেছে পরে ।অবশ্য ষাট দশকের আমাদের আধুনিক গানের অগ্রদূত অনেক গায়কও পূর্বসুরী ভারতীয় গায়কদের গান দিয়ে শিল্পী জীবন শুরু করেছিলেন পরবর্তীতে তাদের নিজস্ব স্টাইল গড়ে তুলেছিলেন ।আসফ-উদ দৌলা,সৈয়দ আঃ হাদী,মোঃ আলী সিদ্দিকী,শওকত হায়াত খাঁন ও মোঃ খুরশীদ আলম সরাসরি শ্যামল মিত্রের গায়কী দ্বারা অণুপ্রাণিত ছিলেন ।আঃ জব্বার শ্যামল মিত্র ও হেমন্তের অনুসারী ছিলেন,খন্দকার ফারুক আহমদ মান্না দের ,সাইফুল ইসলাম হেমন্তের ও এম,এ হামিদ তরুণ বন্দোপাধ্যায়ের গায়কী দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন ।আরো দুজন কিংবদন্তী বশির আহমদের বেইজ ছিল প্রাথমিকভাবে হিন্দি ও পরবর্তীতে উর্দু আর মাহমুদুন্নবী ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন উর্দু প্লেব্যাক দিয়ে ।যাই হোক্ এসকল সম্মানিত শিল্পীবৃন্দ কখনোই তথ্য গোপন রেখে বাণিজ্যিক ভাবে পূর্বসূরীদের গান রেডিওতে বা অন্য কোন মাধ্যমে রেকর্ড করেন নি, তারা তাদের আদর্শ শিল্পীদের গান গাইতেন বিভিন্ন স্টেইজ ফাংশানে ।কিন্তু স্বাধীনতার অব্যহতি পর থেকেই অনৈতিকভাবে গানের মূল পারফরমারদের নির্বাসিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয় যা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান ।ব্যাপক সমালোচনার মুখে এখন কিছু ক্ষেত্রে মূল কুশলীদের তথ্য দেয়ার চেষ্টা করা হয় তবে পূর্ব থেকেই তথ্য সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু না করার জন্য অজস্র ভুল তথ্য দিয়ে শ্রোতাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে ।যেমন বশির আহমদ মারা যাওয়ার পর তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয় গানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় মাহমুদুন্নবীর গাওয়া''আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে''(গানটি আবিদা সুলতানাও গেয়েছেন)গানটিকে ।এ কাজটি চ্যানেল নাইন এমনকি সাধারণ জ্ঞানের জনপ্রিয় বুক ''কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সেও''প্রকাশিত হয় ।খন্দকার ফারুক আহমদ মারা যাওয়ার পর দৈনিক ঈত্তেফাক ও দৈনিক ইনকিলাব উভয় পত্রিকাতেই তাঁর জনপ্রিয় গানের তালিকায় দেয়া হয় কাজী আনোয়ার হোসেন ও আঃ আলীমের দ্বৈত কন্ঠে গাওয়া''এই যে আকাশ এই যে বাতাস''গানটিকে ।বিভিন্ন টিভি চ্যানেল প্রতিযোগিতা করে ভুল তথ্য পরিবেশন করে থাকে ।এতটুকু আশা ছবির গানকে নীল আকাশের নিচে,বন্ধু ছবির গানকে সমাধি,অনুরোধ ছবির গানকে অনুরাগ কাগজের নৌকার গানকে সুতরাং ছবির,সৈয়দ শামছুল হকের লেখা গানকে গাজী মাযহারুল আনোয়ার,ডঃ মনিরুজ্জামানের লেখা গানকে মাসুদ করীম,আবু হেনা মুস্তাফা কামালের লেখা গানকে মোঃ রফিকুজ্জামান,সুবল দাশের সুর করা গানকে আজাদ রহমান,আলী হোসেনের সুরারোপিত গানকে খন্দকার নুরল আলম,আনোয়ার পারভেজের সুরকে আলাউদ্দিন আলীর,ধীর আলীর সুরকে সত্য সাহার বলে চালিয়ে দেয়াতে এদের কোন জুড়ি নেই । বিটিভি,চ্যানেল আই ও এটিএনকে ঐতিহ্য সংরক্ষণে অপেক্ষাকৃত যত্নশীল মনে হলেও এদের প্রচারেও অসংখ্য ভুলভ্রান্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে ।মাস দুয়েক পূর্বে বিটিভিতে সৈয়দ শামছুল হক ও সাবিনা ইয়াসমীন একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ।সাবিনা ইয়াসমীনকে অনুরোধ করা হয় সৈয়দ শামছুল হকের লেখা একটা গান গাইতে ।তিনি বশির আহমদের সুরে ময়নামতি ছবির বহুল জনপ্রিয় গান''ফুলের মালা পরিয়ে দিলে আমায় আপন হাতে''গানটি গাইলেন । গত অক্টোবর ২ তারিখে রাতের একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানে একই গানটি যখন রন্টি দাশ গাইলেন টাইটেলে গীতিকার হিসেবে দেখানো হলো গাজী মাযহারুল আনোয়ারের নাম ।রন্টি দাশ গানটি গাওয়ার সময় স্থায়ী ও অন্তরা ২ জায়গায় লিরিক্সে ভয়াবহ ভুল করলেন আর সুরও বিকৃত করলেন ।একই সাথে একই গানে তথ্যবিভ্রাটও ঘটলো,গানও নির্যাতিত হলো ।এ ধরনের ঘটনা অহরহই ঘটছে ।কোন জবাবদিহিতা নেই ।শিল্পীদের উত্তরাধিকারদের মধ্যে বশির আহমদ তনয় রাজা বশির তুলনামূলকভাবে ঐতিহ্য সংরক্ষণে আন্তরিক ও যত্নশীল হলেও তিনি মাঝে মাঝেই ভুল তথ্য দেন ।২ অক্টোবরের অনুষ্ঠানে তিনি বশির আহমদের গাওয়া সুবিখ্যাত গান''আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো''খুব যত্নের সাথেই গাইলেন ।কিন্তু তথ্য দেয়ার সময় গীতিকার ও সুরকার হিসেবে খান আতাউর রহমানের নাম সঠিকভাবে বললেও ছায়াছবির নাম উল্লেখ করলেন মনের মানুষ যদিও গানটি মনের মত বউ ছবির ।২৮ সেপ্টেম্বর ঈদের ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে ''সেই সব গান''নামে একটি অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় ।প্রবীন শিল্পীদের গান নবীন শিল্পীরা যা গাইলেন তাতে যারা মূল গানটি শুনে অভ্যস্থ তাদের কাছে শিল্পীদের পরিবেশনাকে হাস্যকর মনে হয়েছে ।একমাত্র মুহিন নামের এক গায়ক আন্তরিক চেষ্টা করেছেন মাহমুদুন্নবীর গাওয়া গানকে নির্ভুলভাবে গাওয়ার যদিও''জানি কবিতার চেয়ে তুমি সুন্দরতম''গানটিতে তিনি দু জায়গায় লিরিক্স ভুল করেছেন ।সাধারন শ্রোতাদের কাছ থেকে তথ্য ধার করে যেনতেনভাবে এ ধরনের অনুষ্ঠান না করাটাই মনে হয় ভাল ।আরো দুঃখজনক ব্যাপার হলো অনুষ্ঠানে প্রবীণ শিল্পীদের যে ছবি দেখানো হয়েছে তা নেট থেকে নেয়া ।কতৃপক্ষের কাছে আমাদের কিংবদন্তী শিল্পীদের ছবি বা ভিডিও ফুটেজ কোন কিছুই নেই ,কোন তথ্যও নেই ।অবাক ব্যাপার হলো মোস্তফা কামাল সৈয়দ ও নওয়াজিশ আলী খানের মত ব্যক্তিত্বরা এখনো মিডিয়াতে থাকা সত্বেও কেন এ ঘটনাগুলো ঘটে তা বোধগম্য নয় ।
গানের মূল শিল্পীদের নির্বাসিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয় স্বাধীনতার সময় থেকেই ।এ প্রক্রিয়া থেকে গীতিকার ও সুরকারদেরও মুক্তি নেই ।১৯৬৫ সালে রেডিওতে ডঃ মোঃ মনিরুজ্জামানের লেখা ও সমর দাশের সুরে ইসমত আরা ও এম,এ হামিদের কন্ঠে রেকর্ড করা হয়''তারা এ দেশের সবুজ ধানের শীষে চিরদিন আছে মিশে''গানটি ।স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেও মূল গানটি বেজেছে ।কিন্তু পরর্তীতে গানটি রিমেইক হয় কাদেরী কিবরিয়া ও শাহীন সামাদের দ্বৈত কন্ঠে এবং তিমির নন্দীর কন্ঠেও ।গানের মূল শিল্পী ইসমত আরা ও এম,এ হামিদের নাম উধাও হয়ে যায় ।কিছুদিন পূর্বে মারা গেছেন ইসমত আরা ।এম,এ হামিদ তাঁর স্ত্রী অপ্রতিদ্বন্দী লোকগীতি গায়িকা নীনা হামিদকে নিয়ে থাকেন আমেরিকাতে ।যে সকল প্রবীন শিল্পী সময়ের আগেই গানের জগত থেকে বিদায় নিয়েছেন তাদের মধ্যে গান হাইজ্যাকিংএর দুঃখবোধও কাজ করেছে ।
হালের জনপ্রিয় গায়িকা কণকচাঁপা তার প্রথম এ্যালবামটি সাজিয়েছিলেন সতীনাথ মুখার্জীর গাওয়া''এখনো আকাশে চাঁদ ঐ জেগে আছে'',ফেরদৌসী রহমানের গাওয়া''রাত বলে ওগো তুমি যে আমার''ও''মনে যে লাগে এত রঙ ও রঙিলা'',খন্দকার ফারুক আহমদের সেই কালজয়ী গান''ওগো বন্ধু রিক্ত হাতে যারে ফিরায়ে দিলে'',মাহমুদুন্নবীর গাওয়া''তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছ'',ইসমত আরার গাওয়া''আকাশের নীল বেদনায় আমার এ গান খানি সুর পেতে চায়''ইত্যাদি গানগুলো দিয়ে ।এ্যালবামের কোথাও মূল গানগুলোর কোন তথ্য ছিল না ।এ্যালবামটি হিট হয়েছিল ।হারানো দিনের গান গেয়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন ফাতেমাতুজ্জোহরা ও রিজিয়া পারভীন ।কোনদিন মূল গান সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন বলে মনে হয় না ।অবশ্য ব্যতিক্রমও আছেন ।ছন্দামনি নামের এক গায়িকা তার এ্যালবামের প্রথমে গানের মূল শিল্পীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন ।সুবীর নন্দী কোন অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গ উঠলেই কিংবদন্তী শিল্পীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন ।
মোঃ খুরশীদ আলমের বহু গান মৌসুমী গায়কদের নামে চলছে ।আঃ জব্বারের কালজয়ী গান''ওরে নীল দরিয়া''নিয়ে অনেক টানাহেঁচড়া হয়েছে ।গানটি অনেকদিন পর্যন্ত পথিক নবীর নামে চলেছে । মাহমুদুন্নবী, বশির আহমদ,নীলুফর ইয়াসমীন ও আঞ্জুমান আরা বেগমদের উত্তরাধিকাররা কিছুটা সক্রিয় থাকায় এদের নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ অপেক্ষাকৃত কম ।সৈয়দ আঃ হাদী ও শওকত হায়াত খাঁন নিজেরা নিজেদের গান রিমেইক করেন ।রিমেইকের ডামাডোলে হারিয়ে গেছেন খন্দকার ফারুক আহমদ ।প্রয়াত মোঃ আলী সিদ্দিকী সামান্য টিকে আছেন স্ত্রী লোকগীতি গায়িকা সুরাইয়া সিদ্দিকীর সতর্কতায় ।
যেহেতু গান রিমেইক হচ্ছে ব্যবসায়িক স্বার্থে সুতরাং মূল গানের কথা ও সুর বিকৃত হওয়াটাই স্বাভাবিক ।বিকৃত হয়েছে মিউজিক কম্পোজিশনেও ।দুঃখজনক ব্যাপার হলো রবীন্দ্র সঙ্গীত,নজরুল গীতি ও ট্র্যাডিশনাল ফোক গানের সুরও বিকৃত করে সামঞ্জস্যহীন মিউজিকে উপস্থাপন করা হচ্ছে ।ট্রাডিশনাল ফোক গানের যে বিকৃতি হচ্ছে তা ভয়াবহ । এ ধরনের বিকৃতিকে পুঁজি করে কেউ বিশ্ববিখ্যাত গায়িকা হয়ে গেছেন আর ফোক গানের অরিজিনাল শিল্পী নীনা হামিদ,আরতী ধর ,মুস্তাফা জামান আব্বাসী,নাদিরা বেগম,রথীন্দ্রনাথ রায়,ইন্দ্রমোহন রাজবংশীরা গানের জগত থেকে বিদায় নিয়েছেন ,।বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তী ফেরদৌসী রহমান ফোক গানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ।প্রকৃতপক্ষে গানের অসৎ ব্যাবসায়ীদের ফোক গানকে পুঁজি করে ব্যবসা করাটা অনেক সহজ ।কারণ প্রচলিত ফোক গান গাওয়ার মত অনেক বেইজলেস পারফরমার তারা সহজেই পেয়ে যান ।আজ আঃ রউফের কোন নাম নিশানা নেই ।অথচ আব্বাসউদ্দিন আহমদ ও আঃ আলীমের পর আঃ রউফকেই পল্লীগীতির সবচে সম্ভাবনাময় গায়ক ভাবা হত ।আঃআলীমও ধীরে ধীরে বিস্মৃত হয়ে যাচ্ছেন ।সত্যিকারের শিল্প ও শিল্পী নির্বাসনেরএ নির্মম অভিযানে একটি কুচক্রীমহল সক্রিয় ।এরা প্রভাবশালীও ।এর মাঝেও ক্রান্তি,বেঙ্গল ফাউণ্ডেশন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে অনেক শ্রোতা মূল গানকে টিকিয়ে রাখার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন ।সরকারী তৎপরতায় কোন আন্তরিকতা নেই ।রেডিওর অনেক পুরনো রেকর্ড স্রেফ ফেলে দেয়া হয়েছে ।রেডিওতে ১৯৬০-১৯৬৫ পর্যন্ত আনোয়ারউদ্দিন খাঁন,খন্দকার ফারুক আহমদ,আঃ জব্বার,মোঃ আলী সিদ্দিকী,সৈয়দ আঃ হাদী,ফেরদৌসী রহমান ও আঞ্জুমান আরা বেগমরা অনেক শ্রুতিমধুর গান রেকর্ড করেছিলেন যার ১০ভাগও এখন নেই ।বাংলাদেশী আধুনিক গানের অন্যতম অগ্রদূত আবু বকর খাঁনের মাত্র ২টি গান পাওয়া গেছে তাও একজন শ্রোতার কাছ থেকে ।আসফ-উদ দৌলার কিছু গান পাওয়া গেলেও ,ফরিদা ইয়াসমীন,কাজী আনোয়ার হোসেন ও লায়লা আর্জুমান্দ বানুর অনেক গান হারিয়ে গেছে ।উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গান হারিয়ে গেছে মাহমুদুন্নবী,বশির আহমদ,এম,এ হামিদ ও সাইফুল ইসলামের ।১৯৬২ সালে একই ছবি’’নতুন সুর’’এ প্রথম প্লেব্যাক করেছিলেন তরুণ গায়ক মোঃ আঃ জব্বার ও কিশোরী গায়িকা শাহনাজ বেগম ।শাহনাজ বেগম ও ফেরদৌসী রহমানের এ ছবিতে চমৎকার একটি শিশুতোষ ডুয়েট’’সিএটি ক্যাট মানে বিড়াল ও আঃ জব্বার ও ফেরদৌসী রহমানের একটি রোমান্টিক ডুয়েট’’’’তুমি আছ কাছে তাই’’গান দুটি এখন আর কোথাও পাওয়া যায় না ।সঙ্গীতবোদ্ধাদের অভিমত মোঃ আলী সিদ্দিকীর গাওয়া সেরা দুটি গান হলো’’বাঁশী বাজে ঐ দূরে’’ও’’কালো রুপ কত অপরুপ আমি দেখেছি নয়ন মেলে’’।প্রথম গানটি শিল্পীর নিজের লেখা ও সুর করা বেসিক গান যা এখনো পাওয়া যায় ।১৯৬৭ সালে জহীর রায়হান প্রোডাকশনের ব্যানারে নুরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘’আগুন নিয়ে খেলা’’য় কবি সিকান্দার আবু জাফর এর লেখা ও শহীদ আলতাফ মাহমুদের সুরে’’কালো রুপ কত অপরুপ’’গানটি কোথাও পাওয়া যায় না ।গানটি লীনু বিল্লাহ সহ অনেকেই পরে গেয়েছেন কিন্তু গানটির ব্যাকগ্রাউণ্ড অনেকেরই জানা নেই ।এভাবেই শিল্পী ও শিল্পকে নির্বাসিত করা ও সঙ্গীত শিল্পকে নির্যাতিত করার মিশন এগিয়ে চলেছে দূর্বার গতিতে ।এ মিশনের আদৌ কোন সমাপ্তি আছে কিনা সময় বলে দেবে ।এমনো হতে পারে সত্যিকারের শিল্পের মৃত্যু হবে আর বিকৃত শিল্প টিকে থাকবে ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন