১৯৫৫ সালে আবু বকর খাঁন,আনোয়ারউদ্দিন খাঁন,আবু হেনা মুস্তাফা কামাল এই বন্ধুত্রয় নাজিমউদ্দিন রোডের রেডিয়ো স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করেন তখন বর্তমান বাংলাদেশী আধুনিক সঙ্গীত এক ভিন্নমাত্রা পায় । একই বছর যোগ দেন ফেরদৌসী রহমান,১৯৫৮ সালে আঞ্জুমান আরা বেগম ও ১৯৫৯ সালে আঃ জব্বার । ফেরদৌসী রহমান ও আঞ্জুমান আরা বেগম তখন সদ্যই কৈশোর অতিক্রম করেছিলেন, আনোয়ার উদ্দিন খাঁন ও আবু হেনা মুস্তাফা কামাল তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র ।
১৯৫৫ সাল পর্যন্ত যারা রেডিওতে গাইতেন সংগত কারণেই তাদের কণ্ঠ ও সুরে পশ্চিম বংগের একটা ধাঁচ এসে যেত। আবু বকর খাঁন, আবু হেনা মুস্তাফা কামাল ও আনোয়ার উদ্দিন খাঁন যখন গানের ভুবনে এলেন তখন থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রিক যাকে আমরা পূর্ব বাংলা বলতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করতাম এ এলাকার সুর ও গায়কীতে একটা স্বাতন্ত্রবোধ দেখা দেয়। মূলত এদের হাত দিয়েই মূল আধুনিক গানের সূত্রপাত হয়। আবু বকর খাঁন ছিলেন এক ক্ষণজন্মা সুর ও কণ্ঠসাধক। তাঁর কোন গানই দীর্ঘদিন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ওনার গান সংগ্রহের জন্য শিল্পকলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে একটি কমিটিও কাজ করেছিল। অবশেষে এক বিদগ্ধ সংগীত সংগ্রাহকের মাধ্যমে তাঁর ৪ টি গান পাওয়া গেছে। আবু হেনা মুস্তাফা কামাল গান লিখতেন, আনোয়ার উদ্দিন খাঁন গাইতেন, আবু বকর খাঁন সুর করতেন ও গাইতেন। এরা তিনজন পরস্পর ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। আনোয়ার উদ্দিন খাঁন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে ও আবু হেনা মুস্তাফা কামাল বাংলায় পড়তেন। তাঁরা তিনজন তখন রেডিও ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় স্টেজ শো করতেন। আরো তিনজন গায়কের নাম উল্লেখ্য, আসফ উদ্দৌলা, কাজী আনোয়ার হোসেন ও আলতাফ হোসেন। আঞ্জুমান আরা বেগম, ফেরদৌসী রহমান ও ফরিদা ইয়াসমিনও তখন রেডিওতে নিয়মিত গান করছেন।
১৯৬০ সালে রেডিও স্টেশন নাজিমউদ্দিন রোড থেকে শাহবাগে স্থানান্তরিত হয়। একই সালে রেডিওর অডিশনে পাস করে সংগীতের ভূবনে পা রাখেন এক অসামান্য গায়ক মো: আলী সিদ্দিকী, তিনি কনভার্টেড মুসলিম, আগের নাম প্রদীপ কুমার সিনহা, বাড়ি ময়মনসিংহের শেরপুরে, বাংলাদেশের একমাত্র গারো সঙস্টার। ১৯৬১ সালের ২ জানুয়ারি একই দিনে রেডিওর অডিশনে পাস করেন খন্দকার ফারুক আহমেদ ও সৈয়দ আ: হাদী, ১৯৬২ সালে আসলেন মাহমুদুন্নবী, গানের জন্য যিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে করাচি চলে গিয়েছিলেন। ১৯৬২ সালে রবিন ঘোষ সুরারোপিত ও এহতেশাম পরিচালিত নতুন সুর ছবিতে একই সাথে প্লেব্যাক অভিষেক হয় বাংলাদেশের তিন সংগীত নক্ষত্রের - মো: আ: জব্বার, শাহনাজ বেগম ও সাবিনা ইয়াসমিনের। ফেরদৌসী রহমানের লিড ভয়েসে একটি শিশুতোষ গানে কণ্ঠ দেন শাহনাজ বেগম ও সাবিনা ইয়াসমিন। আ: জব্বার একটি ডুয়েটে কণ্ঠ দেন ফেরদৌসী রহমানের সাথে। আ: জব্বারের বয়স তখন২৪, শাহনাজ বেগম ও সাবিনা ইয়াসমিন দুজনেরই ১১।
(সঙ্গীত পিপাসুরা চাইলে লেখাটা ধারাবাহিকভাবে চলবে)


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন