পরিবার,শুভাকাঙ্ক্ষী,দেশবাসী,ভক্ত
সবারই মানসিক প্রস্তুতিটা ছিল । কারণ ৯ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার পর দেশে ফেরার
জন্য উদগ্রীব এন্ড্রু কিশোর স্ত্রীকে বলেছিলেন,'' আমি
দেশে মরতে চাই।''১১ জুন তিনি দেশে ফেরেন ।
বিষয়টি আরো অবধারিত হয়ে ওঠে যখন তাঁর পুত্র, কন্যা
অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । অবশেষে নন হজকিন্স লিম্ফোমা নামক
প্রাণঘাতি ব্লাড ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হেরে গেলেন এন্ড্রু কিশোর । ৬ জুলাই,
২০২০ সন্ধ্যা ০৬-৫৫ টায় অনন্তের পথে পাড়ি দিলেন সর্বজনপ্রিয়
কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর ।যদি বলা হয় শুধুমাত্র গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়ার
জন্যই তাঁর জন্ম হয়েছিল তাহলে মোটেই বাড়িয়ে বলা হবে না । সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে তিনি
নিজ শহর রাজশাহীতে বোন ডাঃ শিখা বিশ্বাসের বাসায় উঠেন। ৬ জুলাই সন্ধ্যায় তাঁর
অবস্থার অবনতি হলে বোন শিখা বিশ্বাস ও ভগ্নীপতি ডাঃ প্যাটারিক বিপুল বিশ্বাসের
বাড়িতেই অবস্থিত ক্লিনিকে আইসিইউতে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন
বাংলাদেশের প্লেব্যাক সম্রাট।
আইসিইউতে নেয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনি বোনকে বলেন তাঁর সেলফোন থেকে
সুরকার আলম খাঁনকে লাইন দেয়ার জন্য। লাইন পাওয়ার পর কাঁপা কণ্ঠে বললেন,'' দাদা,
আমার সময় ফুরিয়ে এসেছে । দোয়া করবেন যেন কষ্টটা কম হয় । আর মাফ
করে দেবেন ।'' আলম খাঁন বলেন,'' তুমিতো
ঔষধ খাচ্ছ।'' এন্ড্রু কিশোর বললেন,'' দাদা,
আমি বুঝতে পারছি।'' এরপর ওই সেলফোনের পরিচিত
কণ্ঠ, দেশবাসীর অতি আপন কণ্ঠটি চিরতরে নিরব হয়ে
যায় ।
সর্বজনশ্রদ্ধেয় কণ্ঠশিল্পী শওকত হায়াত খাঁনের স্মৃতিচারণ---
১৯৬৫-৬৬ সালে আমি, রফিকুল আলম, এ,এইচ
এম রফিক রাজশাহীর কেন্দ্রস্থলে সুরবানী নামের এক সঙ্গীত বিদ্যায়তনের ছাদে গানের
আসর বসাতাম । ওখানে ১০/১১ বছর বয়সের একটা ছেলে আমাদের আসরে তন্ময় হয়ে গান শুনত ।
আমরা ওকেও গান গাওয়ার সুযোগ দিতাম । সেই ছেলেটাই ছিল এন্ড্রু কিশোর ।
১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহন করেন এন্ড্রু কিশোর ।
১৯৬২ সালে সঙ্গীতে তাঁর হাতেখড়ি ওস্তাদ আঃ আজিজ বাচ্চুর কাছে । তিনি ১৯৬৮ সালে
রাজশাহী বেতারে তালিকাভূক্ত হন। তিনি গাইতেন নজরুল গীতি, ফোক
ও আধুনিক। তখনও তিনি ক্ল্যাসিক চর্চা করতেন । একবার ভারত গেলেন । ভারত থেকে ফিরে
এসে তিনি পুরোদস্তুর আধুনিক গানে মনোনিবেশ করেন । সত্তরের দশকের প্রথমার্ধ থেকেই
তিনি বিভিন্ন পুজার অনুষ্ঠানে গান গাইতেন। রাজশাহীর অলকা সিনেমা হলের সামনে ওপেন
কনসার্টে গান গাইছেন এন্ড্রু কিশোর আর তাঁর গান শুনে হাজার হাজার দর্শক হাততালি
দিচ্ছে, ১৯৭৫/৭৬ সালে এটা ছিল রাজশাহী শহরের প্রায়
নিয়মিত দৃশ্য । বেশিরভাগই গাইতেন কিশোর কুমারের গান। প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় সঙ্গীত
তারকা কিশোর কুমারের নামের প্রথম অংশটা পিতৃপ্রতত্ত নামের সাথে জুড়ে দিয়েই তিনি
হয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর ।তখন এন্ড্রু কিশোর ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের
ম্যানেজম্যান্টের ছাত্র । তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ রাজশাহীর মানুষ ঢাকা বেতারের
সঙ্গীত প্রযোজক ও সুরকার এ,এইচ,এম
রফিক তাঁকে নিয়ে এলেন ঢাকায় । তুলে দিলেন সঙ্গীত পরিচালক আলম খাঁনের হাতে ।আলম
খাঁন তখনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে এই ছেলে আসছে বাংলাদেশি প্লেব্যাক ভুবনকে
শাসন করতে । ১৯৭৭ সালে আলম খাঁনের সঙ্গীত পরিচালনায় মেইল ট্রেন ছবির জন্য এন্ড্রু
কিশোরের কণ্ঠে একটি গান রেকর্ড করা হয় ।
গানের কথাঃ
‘ অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’
দুঃখজনক ব্যাপার হলো গান ও ছবি কোনটিই আলোর মুখ দেখলো না । ১৯৭৯
সালে বাদল রহমান পরিচালিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘ এমিলের
গোয়েন্দা বাহিনী’ ছবিতে এক পুরুষালী, তেজী
কণ্ঠ শুনে দর্শক/শ্রোতারা একই সাথে চমকে উঠলেন এবং মজাও পেলেন । ‘ ধুম
ধারাক্কা ধুম ধাম’ এই গানটিই ছিল এন্ড্রু কিশোরের প্রথম
প্লেব্যাক ।একদল শিশু কিশোর সহশিল্পীর সাথেতিনি এতে লিড ভয়েস দেন । ১৯৮০ সালে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমান্টে স্নাতকোত্তর করে ঢাকায় থিতু হলেন
এন্ড্রু কিশোর । একই সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতিজ্ঞা ছবিতে গাইলেন ঃ
‘এক চোর যায় চলে এই মন চুরি করে’।
আনোয়ার পারভেজের একসেপশনাল অর্কেস্ট্রেশনে এন্ড্রু কিশোরের এই
ভিগোরাস প্রেজেন্টেশনটি অনেকেই ভুলে গেছেনঃ
‘ হেই মারো হেই মারো হেই মারো টান’( মানসী)
এরপর থেকে এন্ড্রু কিশোরের আর পেছনে ফেরার সুযোগই ছিল না । একে
একে গাইলেনঃ
১। ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে(প্রাণসজনী)
২।কী জাদু করিলা পীরিতি শিখাইলা(প্রাণসজনী, সাবিনা
ইয়াসমিনের সাথে)
৩। দুনিয়াটা মস্ত বড় খাও দাও ফুর্তি কর(জনি)
৪। জয় হবে হবেই আমার(স্বাক্ষর)
৫। আবাহনী আবাহনী মোহামেডান(সন্ধি, সাবিনা
ইয়াসমিনের সাথে)
৬।বেলী ফুলের মালা পরে(বেপরোয়া)
৭।ওগো সাথী আমার তুমি কিছু বলো না(মর্যাদা)
৮।তুমি ডুব দিও না জলে কন্যা(ঝিণুক মালা)
৯।বেদের মেয়ে জোছনা আমায় ফাঁকি দিয়েছে(বেদের মেয়ে জোছনা)
১০।আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে(আঁখি মিলন, সাথে
সামিনা চৌধুরী)
এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে হালকা চটুল, ফোক
টিউনড আধুনিক ও স্পিরিচুয়েল টিউন খুব ভাল মানিয়ে যেত । স্পিরিচুয়াল টিউনে ভয়েস
অ্যাডজাস্টম্যান্টের মাধ্যমে ইমোশনাল পিকে পৌছে যাওয়া এন্ড্রু কিশোরের এক বিশেষ
বৈশিষ্ট্য । তাঁর জীবনের অন্যতম মাস্টারপিস সৈয়দ শামসুল হক- আলম খাঁন কম্বিনেশনের
বড় ভাল লোক ছিল ছবিটি ছিল একটি টার্ণিং পয়েন্ট । নিচের গানগুলো প্রতিটিই এন্ড্রু
কিশোরের বিশেষ দক্ষতার স্বাক্ষর বহন করেঃ
১। হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস(এ গানের জন্য তিনি
প্রথমবারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পান)
২।তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়া
৩। আমি চক্ষু দিয়া দেখতেছিলাম জগত রঙিলা(সৈয়দ আঃ হাদীর সাথে)
একটি গানের জন্য এন্ড্রু কিশোরকে কোনো যুগের শ্রোতাদের মন থেকে
মুছে ফেলা যাবেনা,,যেই গানে তিনি ভয়েস ভ্যারিয়েশন ঘটিয়েছেন
অনুপম দক্ষতায় । ভেজা চোখ ছবির সেই কালোত্তীর্ণ গানঃ
‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’
একই ছবির আরো একটি গান,বন্ধুর সাথে বন্ধুর আসন্ন
বিচ্ছেদের প্রতিভাসঃ
“তুই তো কাল চলে যাবি আমাকে ছেড়ে”
ভাইবন্ধু ছবির এই গানটি এন্ড্রু কিশোরের একটি ভিন্ন আঙ্গিকের
পরিশীলিত, উচ্ছল উপস্থাপনঃ
‘ ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা
উড়েছে পাখি পথ অচেনা’
অনেকেই ভেবেছিলেন এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে মেলোডিয়াস রোম্যান্টিক
গান মানানসই হবে না । নিচের সলো ও ডুয়েটের মাধ্যমে তিনি এই ঘরানাতেও তাঁর প্রতিভার
স্বাক্ষর রেখেছেনঃ
১। সবাইতো ভালবাসা চায়( সারেন্ডার ছবির এই গানের জন্য তিনি জাতীয়
চলচ্চিত্র পুরষ্কার জেতেন, একই গানটির ডুয়েট আছে
সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে)
২।চাঁদের সাথে আমি দেবনা তোমার তুলনা(আশীর্বাদ ছবিতে রুনা লায়লার
সাথে)
৩। চোখ চায় তোমাকে শুধু দেখতে(আলী আসমা ছবিতে সাবিনা ইয়াসমিনের
সাথে)
৪। বুকে আছে মন মনে আছে আশা(রুনা লায়লার সাথে লড়াকু ছবিতে)
৫।তুমি আজ কথা দিয়েছ(দুই জীবন, সহশিল্পী-রুনা
লায়লা)
৬।আমার বুকের মধ্যিখানে মন যেখানে হৃদয় যেখানে(নয়নের আলো)
৭। তুমি আমার জীবন(অবুঝ হৃদয়)
৮। তুমি মোর জীবনের ভাবনা(আনন্দ অশ্রু)
নয়নের আলো ছবিতে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল- জাফর ইকবাল-এন্ডু কিশোরের
রসায়নটা ছিল একটা ঐতিহাসিক ঘটনা ।প্রেমের এমন বিধ্বংসী আকুলতা ফুটে ওঠা গান পাওয়া
গেছে খুব কমইঃ
‘আমার সারা দেহ খেওগো মাটি এই চোখ দুটো মটি খেও না
আমি মরে গেলেও তারে দেখার সাধ মিটবে না গো মিটবে না’
রুদ্র মোঃ শহীদুল্লাহর অবিস্মরণীয় কবিতাকে গানে রুপান্তরিত করে
উপমহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার কৃতিত্বটি ছিল এন্ড্রু কিশোরের । কবিতাটিকে গানে
রুপান্তরের জন্য যখন এদিক সেদিক ছুটাছুটি করছিলেন এন্ড্রু কিশোর তখন এগিয়ে এলেন
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল । আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল- এন্ড্রু কিশোর জুটি রাঙিয়ে দিল
অকালপ্রয়াত কবি রুদ্র মোঃ শহীদুল্লাহর কবিতকেঃ
‘ ভাল আছি ভল থেক, আকাশের
ঠিকানায় চিঠি লিখ’
গানটিকে পরবর্তীকালে সালমান শাহ্ অভিনিত- তোমাকে চাই ছবিতে যুক্ত
করা হয়। এ গানের আবেদন জাতীয় সীমানা পার হয়ে গেছে বহু আগেই ।
এন্ড্রু কিশোরের স্যাড মুডের গান খুব কম হলেও নিচের গানগুলোতে
তিনি দেখিয়েছেন অদ্ভুত মুন্সীয়ানাঃ
১। ভালবেসে গেলাম শুধু ভালবাসা পেলাম না( কেউ কারো নয়)
২। আমি সেই মেয়েটির দেখা পেয়েছি(ভালবাসা, গানটির
হ্যাপি মুডটিও গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর)
৩। আমি চিরকাল,প্রেমেরও কাঙাল(প্রিন্সেস
টিনা খাঁন)
মোঃ খুরশীদ আলমের সাথে নিচের একটি ডুয়েট ও মোঃ খুরশীদ আলম,রথীন্দ্রনাথ
রায়ের সাথে এন্ড্রু কিশোরের কোরাস, এ দুটি গান হলো আলম খাঁনের
স্পেশিয়াল কম্পোজিশনঃ
১। কেন রে চুমকী কথা কয় না( রাজা জনি)
২। আমরা চলেছি একঝাঁক উচ্ছল পায়রা(বাঁধন হারা)
এন্ড্রু কিশোরের নিজস্ব ধারণায় তিনি সিনেমায় যত গান গেয়েছেন তার
মধ্যে যাদুনগর ছবির গানটি গাইতে তাঁর সবচে বেশি কষ্ট হয়েছে ।তাঁর মতে গানটিতে ভয়েস
পিকে নিতে হয়েছিল ঘন ঘন এবং ৩৮বার টেকের পর গানটি ওকে হয়। গানটি ছিলঃ
‘ তুমি যেখানে আমি সেখানে সেকি জান না’
এন্ড্রু কিশোরকে বলা হয় প্লেব্যাক সম্রাট । টানা তিন যুগ সিনেমার
গানের অনিবার্য কণ্ঠ ছিল এন্ড্রু কিশোরের । অন্য মাধ্যমে তাঁর গাওয়ার সুযোগ ছিল কম
।তথাপি নিচের রেডিওর বেসিক গানগুলো শ্রোতাদের এখনো মোহিত করেঃ
১। ওগো বিদেশিনী তোমার চেরী ফুল দাও আমার শিউলি নাও
২। দুপুরের নির্জন পার্কে এলেই বড় বেশি মনে পড়ে তোমাকে
৩।মানুষের গড়া সভ্যতা ধ্বংস হবেই একদিন
৪। সোহেলী ও সোহেলী
৫। ও যেন এক বৈশাখী ঝড়
৬। আমার রাজ্যতো নেই আছে শুধু রাজার মত মন
শ্রোতারা যখন তাঁর নিচের দেশাত্নবোধক গানগুলো শোনেন নিশ্চয় আফসোস
হয় কেন তাঁকে দেশাত্মবোধক গনে আরো বেশি ব্যবহার করা হলো নাঃ
১। স্বপ্ন আমার কাজল পুকুর তুমি
২। রেল লাইন পার হয়ে নদীর কিনার ছুঁয়ে
৩। পদ্ম পাতার পানি নয়, দিন
বদলের গ্লানি নয়
এন্ড্রু কিশোর নিজেকে কণ্ঠ শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন ।
তাঁর জন্মই হয়েছিল গান গাইতে এবং গান গাওয়ার কাজটি তিনি বরাবরই খুব আনন্দের সাথেই
করে গেছেন এবং নিজের স্টাইল ও প্রেজেন্টেশনকে দর্শক শ্রোতাদের কাছে উপভোগ্য করে
তুলেছেন ।জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছেন ৮বার, বাচসাস
জিতেছেন ৫বার । তাঁর গাওয়া সিনেমাগুলো যদি কেউ নাও দেখে তাঁর গান শুনে ওরা
উদ্বেলিত হবে ।অন্য প্লাটফরমে যাওয়ার অবারিত সুযোগ থাকা সত্বেও তিনি আমৃত্যু গানের
ভুবনেই থাকতে চেয়েছেন । তাঁর অমায়িক আচার আচরণ সম্পর্কে বাংলাদেশের সঙ্গীতের
প্রয়াত কিংবদন্তী খন্দকার ফারুক আহমেদ বলেছিলেন—স্বাধীনতার
পর এন্ড্রু কিশোরের মত এত বিনয়ী, ভদ্র গায়ক আর কাউকে পাইনি ।
দেখা হলে সে আমার দিকে ছুটে আসত আর আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরতাম ।
গানের সুরটা এন্ড্রু কিশোর ধরে ফেলতে পারতেন সহজেই এবং গায়কীতে
প্রয়োগ করতেন নিজস্ব ইনোভেশন ।আপ এন্ড ডাউন ভয়েস কন্ট্রোলিং ছিল চমকপ্রদ । তিনি
গান গেয়েছেন ৪৫০এরও অধিক ছবিতে ।
রাহুল দেব বর্মণ আমন্ত্রণ জানানো সত্বেও তিনি বোম্বেতে থিতু হননি
। তিনি হিন্দি শত্রু ছবিতে গান গেয়েছিলেন রাহুল দেব বর্মণের সুরে ।
দেশীয় সঙ্গীতের প্রতি প্রশ্নহীন আত্মনিবেদন ছিল এন্ড্রু কিশোরের ।
পেশাদার ছিলেন তবে নিজের সত্তাকে কখনো বিসর্জন দেননি ।
এই একজন এন্ড্রু কিশোর বাংলাদেশের সঙ্গীতাকাশে ধ্রুবতারার মতই
জ্বলবেন আরো বহু যুগ ।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন